ইকিউ টেস্ট

ইকিউ টেস্ট: অন্যের মন পড়তে আর নিজের মেজাজ সামলাতে তুমি কতটা পারো?

ইকিউ টেস্ট শুরু করো

সাইনআপ নেই · যেখানে খুশি শেয়ার করো

বন্ধু তৃতীয়বার শেষ মুহূর্তে প্ল্যান ক্যানসেল করল। তুমি শান্তভাবে বলো যে খারাপ লেগেছে, নাকি 'ঠিক আছে' বলে তিন দিন মুখ ভার করে থাকো? মিটিংয়ে সহকর্মী তোমার আইডিয়ার কৃতিত্ব নিয়ে নিল, তখন? এই ইকিউ টেস্ট এরকম ২০টা পরিস্থিতি সামনে রাখে আর দেখে তুমি আসলে কী করো।

ইকিউ মানে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা: নিজের অনুভূতি চিনতে পারা, মাথা ঠান্ডা রাখা, অন্যের অবস্থা বোঝা আর মানুষের সাথে সহজে মেশা। টেস্টটা এই চারটা দিকেই আলাদা করে দেখে, তাই শেষে শুধু একটা নাম নয়, কোথায় তুমি শক্ত আর কোথায় কাঁচা সেটাও জানতে পারো।

টেস্ট ফ্রি, কোনো নিবন্ধন নেই, চার-পাঁচ মিনিট লাগে। চারটা রেজাল্টের একটা আসে: বিকাশমান, স্থির, উঁচু বা অসাধারণ ইকিউ। এটা মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা নয়, নিজেকে চেনার একটা হালকা উপায়।

1 ২০টি পরিস্থিতির সততার সাথে উত্তর দাও
2 তোমার ইকিউ লেভেল আর চারটি মাত্রা দেখো
3 শেয়ার করো আর বন্ধুদের সাথে মিলিয়ে দেখো

ইকিউ টেস্ট দিয়ে কী বোঝা যায়?

আইকিউ যেখানে ধাঁধা সমাধানের ক্ষমতা মাপে, ইকিউ সেখানে মানুষের সাথে চলার ক্ষমতা মাপে। রাগের মাথায় কী বলে ফেলো, কান্নারত বন্ধুর পাশে কীভাবে বসো, সমালোচনা শুনে কী হয়, এসবই ইকিউ। অনেকের ধারণা এটা জন্মগত, কিন্তু আসলে এটা অভ্যাসের মতো, চর্চায় বাড়ে।

এই টেস্ট চারটা দিক আলাদা করে দেখে: নিজের অনুভূতি চেনা, নিজেকে সামলানো, অন্যের জায়গায় নিজেকে বসানো আর সামাজিক দক্ষতা। প্রতিটা প্রশ্ন এর কোনো একটা দিকে পড়ে।

ইকিউ টেস্টের ছবি: জড়িয়ে ধরা একটি মুখ, একটি লাল হার্ট, একটি চিন্তার বুদবুদ আর একটি হ্যান্ডশেক

২০টা পরিস্থিতির উত্তর থেকে রেজাল্ট কীভাবে তৈরি হয়?

প্রতিটা পরিস্থিতিতে চারটা প্রতিক্রিয়া দেওয়া থাকে আর প্রতিটার আলাদা পয়েন্ট, শূন্য থেকে তিন। 'কারণ না বলেই সম্পর্ক ছেঁটে দাও' ধরনের উত্তরে শূন্য, 'শান্তভাবে বলো আর জিজ্ঞেস করো কী হচ্ছে' ধরনের উত্তরে তিন। মোট সর্বোচ্চ ৬০: ২০ পর্যন্ত বিকাশমান ইকিউ, ৩৬ পর্যন্ত স্থির, ৪৯ পর্যন্ত উঁচু, আর ৫০ থেকে অসাধারণ।

সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো 'যা করা উচিত' বেছে নেওয়া। গত সপ্তাহে ঠিক এমন হলে তুমি যা করেছিলে, সেটা বাছলে রেজাল্ট কাজের হয়।

টেস্টে কী ধরনের পরিস্থিতি দেওয়া হয়?

পরিস্থিতিগুলো বন্ধু, পরিবার, অফিস আর সম্পর্ক থেকে নেওয়া। যেমন:

  • গ্রুপ চ্যাটে খেয়াল করলে এক বন্ধু হঠাৎ চুপ হয়ে গেছে। তুমি কি আলাদা করে মেসেজ দাও?
  • আম্মু তোমার কাজ নিয়ে কড়া কথা বললেন। তুমি রেগে উত্তর দাও, নাকি একটু পরে কথা বলো?
  • ঝগড়ার পর প্রচণ্ড রাগ হয়েছে। প্রথম কাজ: স্ট্যাটাস দেওয়া, নাকি এক গ্লাস পানি খেয়ে হাঁটা?
  • বন্ধু এমন কিছু নিয়ে কাঁদছে যা তোমার কাছে তুচ্ছ লাগে। তুমি কী বলো?
  • প্রেজেন্টেশন বা ভাইভার আগে হাত কাঁপছে। নার্ভাস ভাবটা তুমি কীভাবে সামলাও?

ইকিউ আর আইকিউ, কোনটা বেশি কাজে লাগে?

দুটোই, তবে আলাদা জায়গায়। পরীক্ষার হলে আইকিউ, কিন্তু রুমমেটের সাথে বনিবনা, বসের মেজাজ বোঝা বা পরিবারে শান্তি রাখায় ইকিউ। সুখবর হলো ইকিউ বদলায়: যে আজ বিকাশমান পায়, কয়েক মাস সচেতন চর্চার পর স্থির বা উঁচুতে উঠতে পারে। ধাঁধা সমাধানের দিকটা দেখতে চাইলে আইকিউ টেস্ট আলাদা আছে।

এই দেশে ইকিউ নিয়ে এখন এত কথা হচ্ছে কেন?

যৌথ পরিবার, হলের ছয়জনের রুম, অফিসের 'স্যার' সংস্কৃতি আর দিনে দুশোটা মেসেজ, এসবের মধ্যে মানুষের মন পড়া আর নিজের মেজাজ ধরে রাখা প্রতিদিনের কাজ। চাকরির ইন্টারভিউতেও এখন প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশে 'মানুষের সাথে কেমন' সেটা দেখা হয়, তাই ইকিউ শব্দটা অনেকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

টেস্টটা তাই নানা জায়গায় চলে: জুনিয়ররা বন্ধুদের মধ্যে কে সবচেয়ে ঠান্ডা মাথার তা বের করে, দম্পতিরা একসাথে দিয়ে দেখে কে আগে রেগে যায়, আর কিছু টিম লিড লাঞ্চে পুরো টিমকে দিয়ে খেলায়। ফলাফল নিয়ে কথাটা প্রায়ই টেস্টের চেয়ে বেশি কাজে লাগে।

ইকিউ টেস্ট নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

ইকিউ টেস্টে কি কোনো সংখ্যা বা ইকিউ স্কোর পাওয়া যায়?

৬০-এর মধ্যে একটা পয়েন্ট আর তার ভিত্তিতে চারটা ধাপের একটা নাম পাওয়া যায়। এটা পেশাদার ইকিউ স্কেলের মতো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা নয়, বরং তুমি আজ কোথায় আছ তার একটা ইঙ্গিত, সাথে চারটা দিকের মধ্যে কোনটা দুর্বল তার ধারণা।

ইকিউ কি বাড়ানো যায়?

যায়, আর এটাই ইকিউর সবচেয়ে ভালো দিক। প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে অনুভূতিটার নাম দেওয়া, রাগের মেসেজ পাঠানোর আগে দশ মিনিট অপেক্ষা করা, আর অন্যের কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকা, এই তিনটা অভ্যাসেই কয়েক মাসে পার্থক্য টের পাওয়া যায়।

বিকাশমান ইকিউ পেলে কি খারাপ কিছু?

না। এর মানে অনুভূতি, নিজের আর অন্যের, তোমাকে প্রায়ই চমকে দেয়। অনেক তরুণই এই ধাপে থাকে, কারণ এগুলো কেউ স্কুলে শেখায় না। রেজাল্টের লেখায় কোথা থেকে শুরু করতে হবে তার একটা ছোট পরামর্শ আছে।

টেস্টের চারটা দিক ঠিক কী কী?

নিজের অনুভূতি চেনা (এই মুহূর্তে তুমি আসলে কী বোধ করছ), নিজেকে সামলানো (রাগ বা নার্ভাস ভাব নিয়ে কী করো), সহমর্মিতা (অন্যের অবস্থা বোঝা) আর সামাজিক দক্ষতা (কথা বলা, সীমানা টানা, বিরোধ মেটানো)। বিশটা প্রশ্ন চারটার মধ্যে ভাগ করা।

ইকিউ টেস্ট দিতে কত সময় লাগে আর কিছু সেভ হয় কি?

বিশটা প্রশ্নে সাধারণত চার থেকে পাঁচ মিনিট। কোনো অ্যাকাউন্ট নেই আর তোমার উত্তর কোথাও জমা থাকে না; পেজ বন্ধ করলে সব মুছে যায়। রেজাল্ট রাখতে চাইলে স্ক্রিনশট নিয়ে রাখো।

পার্টনারের সাথে একসাথে ইকিউ টেস্ট দেওয়া কি ভালো আইডিয়া?

খুবই। দুজনে আলাদা করে দাও, তারপর কোন প্রশ্নে কী বেছেছ তা মেলাও। ঝগড়ার পর কে কীভাবে ঠান্ডা হয়, সেটা নিয়ে কথা বলার এটা সহজ অজুহাত। সম্পর্কটা নিজে কেমন চলছে দেখতে রিলেশনশিপ টেস্ট আলাদা।

আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো

সব কুইজ →